ক বিভাগ- গৃহ ও গৃহ ব্যবস্থাপনা

ষষ্ঠ শ্রেণি — মাধ্যমিক - গার্হস্থ্যবিজ্ঞান | NCTB BOOK
2.1k

গৃহ মানুষের জীবনের প্রথম পরিবেশ। একটি শিশুকে সুস্থ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই পরিবেশকে গৃহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নত করা যায়। এখানে আমরা নানাবিধ কাজ করি। কাজের স্থানগুলো শনাক্ত করে, কোথায় কী কাজ করব তা জানা থাকলে কাজ সহজ হয়। গৃহের ভিতর ও বাইরের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সকলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। গৃহকে পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখতে হলে জিনিসপত্র যথাস্থানে সংরক্ষণ করতে হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করলে প্রতিটি কাজেই সফলতা আসে।

এই বিভাগ শেষে আমরা-

  • গৃহ ও গৃহ পরিবেশের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • গৃহের কাজের স্থান শনাক্ত করতে পারব।
  • ব্যবহারের পর জিনিসপত্র নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করতে শিখব।
  • গৃহ পরিবেশে গাছ লাগানোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • গৃহ ও গৃহ পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • গৃহ ব্যবস্থাপনার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • গৃহ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার গুরুত্ব মূল্যায়ন করতে পারব।
  • গৃহ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উপযুক্ত কীটনাশকের অভাব
পর্যাপ্ত আলো বাতাসের অভাব
অপুষ্ট চারা রোপণ
টবে চারা লাগানো

গৃহ ও গৃহ পরিবেশের প্রাথমিক ধারণা (প্রথম অধ্যায়)

2.1k
Please, contribute by adding content to গৃহ ও গৃহ পরিবেশের প্রাথমিক ধারণা.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

চাষাবাদ শেখার পরে
বিজ্ঞানে উন্নতি করার পরে
লোহার ব্যবহার শেখার পর
আগুন আবিষ্কারের পরে

গৃহ ও গৃহ পরিবেশ (পাঠ ১)

2k

গৃহ- তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ যে, আদিম যুগের মানুষ আমাদের মতো গৃহে বাস করত না। হিংস্র বন্য প্রাণীর আক্রমণ এবং ঝড়, বৃষ্টি, শীত-তাপ ইত্যাদির কবল থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা শুধু একটা আশ্রয়স্থল খুঁজে নিত। এই আশ্রয়স্থলগুলো ছিল বন জঙ্গল, বড় গাছ, পাহাড়ের গুহা ইত্যাদি।
পরবর্তীতে মানুষ ধীরে ধীরে যখন চাষাবাদ শিখল, তখন তারা একত্রিত হয়ে পরিবার গঠন করল। পরিবারের সদস্যদের বসবাসের জন্য তারা গৃহের প্রয়োজন অনুভব করল এবং গৃহ নির্মাণ করতে শিখল। এভাবে গৃহের সূচনা হলো।

আমরা বলতে পারি, গৃহ এমন একটা স্থান যেখানে আমরা পরিবারবদ্ধ হয়ে বাস করি। গৃহ আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমরা আমাদের বিভিন্ন রকম চাহিদা পূরণের জন্য সারাদিন নানারকম কাজে ব্যস্ত থাকি। কাজের শেষে বিশ্রাম ও আরামের জন্য আমরা গৃহে ফিরে আসি। ফলে আমাদের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। গৃহে আমাদের খাদ্য, বস্ত্র ও পোশাক পরিচ্ছদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বিনোদন, বিভিন্ন শখ ইত্যাদি চাহিদা পূরণ হয়। এখানে সবার প্রতি সবার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা থাকার ফলে পারিবারিক বন্ধনটাও মজবুত হয়।

গৃহ পরিবেশ- প্রতিটি মানবশিশুর জীবনের প্রথম পরিবেশ হলো গৃহ। আশেপাশের সবকিছু নিয়ে গৃহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গৃহের ভিতরে ও বাইরের সব অংশ নিয়েই গড়ে ওঠে গৃহ পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের সুখ, শান্তি এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নির্ভর করে গৃহ পরিবেশের উপর।

গৃহ পরিবেশের মধ্যে থাকে-

  • বিভিন্ন ঘর বা কক্ষ
  • ছাদ/চালা
  • বারান্দা
  • আঙিনা ইত্যাদি

পরিবারের সদস্যদের সবরকম বিকাশের জন্য সুন্দর একটি গৃহ পরিবেশ দরকার। আমরা সবাই শিশুকাল থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত এই পরিবেশেই বসবাস করি, তাই ব্যক্তি জীবনে গৃহ পরিবেশের প্রভাব অনেক। এখান থেকেই আমাদের বিভিন্ন অভ্যাস, রুচিবোধ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ গড়ে ওঠে। গৃহ পরিবেশের মধ্যে অবস্থান করে আমরা বিভিন্ন রকম কাজে অংশগ্রহণ করে থাকি। ফলে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ গড়ে ওঠে। আর তাই গৃহ পরিবেশটাও হওয়া দরকার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্য-সম্মত এবং সুশৃঙ্খল। তাহলেই গৃহের মানুষগুলো সুস্থ ও সুশৃঙ্খল হয়ে গড়ে উঠবে যা আদর্শ জাতি গঠনে সহায়ক হবে। গৃহের সব পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূষণ মুক্ত রাখা দরকার। সেজন্য গৃহে যে সব ব্যবস্থা থাকতে হবে-

  • সূর্যের আলো প্রবেশ ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকা।
  • বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা।
  • গৃহের ভিতরে ও বাইরে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।
  • ময়লা পানি ও মলমূত্র নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা রাখা।
  • গৃহে সৃষ্ট ধোঁয়া নির্গমনের ব্যবস্থা থাকা।
  • গৃহের আঙিনায় জায়গা থাকলে সেখানে ছোট-বড় গাছ এবং প্রয়োজনে টবে বিভিন্ন গাছ লাগানো ।

শহর ও গ্রামে গৃহের ধরন আলাদা হয়। শহরে পাকা বাড়ি তৈরি হয় ইট, বালু, সিমেন্ট, রড ইত্যাদি দিয়ে।
আর গ্রামে সাধারণত কাঁচা বাড়ি দেখা যায়। যেগুলো টিন, কাঠ, বাঁশ, মাটি ইত্যাদি দিয়ে তৈরি।

কাজ ১- গৃহের পরিবেশ রক্ষায় তুমি কী কী করতে পারো, তার একটা তালিকা তৈরি করো।
কাজ ২- গ্রামের একটি গৃহ ও শহরের একটি গৃহের তুলনা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

রুমা পড়াশোনায় খুব ভালো। তার আচরণ সকলকে মুগ্ধ করে। তাদের গৃহ পরিবেশ অত্যন্ত গোছানো। ফলে সে আনন্দময় পরিবেশে সময় কাটায়।

উন্নত শিক্ষা
চিত্ত বিনোদন
সুশৃঙ্খল গৃহ পরিবেশ
সলো স্বাস্থ্য

গৃহের অভ্যন্তরীণ স্থানের বিন্যাস (পাঠ ২)

1.3k

আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি যে, আমাদের গৃহে বিভিন্ন রকম স্থান আছে। গৃহে প্রবেশ করার দরজা থেকে শুরু করে বারান্দা, বিভিন্ন ঘর, বাগান, গাড়ি বারান্দা ইত্যাদি সবই গৃহের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন স্থান। গৃহে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হয়। এক এক ধরনের কাজ এক এক জায়গায় করা হয়ে থাকে। গৃহের বিভিন্ন কক্ষ বা স্থানের বিন্যাস এই কাজের উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। যেমন- রান্না, খাওয়া দাওয়া, গোসল, পড়ালেখা, সাজসজ্জা, বিশ্রাম, ঘুমানো, অতিথি আপ্যায়ন ইত্যাদি। এই কাজগুলো প্রত্যেকটাই আলাদা ধরনের। ফলে এই কাজের স্থানগুলোও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

গৃহের কাজের উপর ভিত্তি করে গৃহের অভ্যন্তরীণ স্থানকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। আনুষ্ঠানিক স্থান
২। অনানুষ্ঠানিক স্থান
৩। কাজের স্থান

আনুষ্ঠানিক স্থান- আনুষ্ঠানিক স্থান বলতে বোঝায় যেখানে আনুষ্ঠানিক কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়। এখানে আমরা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করি। আমাদের গৃহে কোনো অতিথি, বন্ধু বান্ধব এলে আমরা আনুষ্ঠানিক স্থানগুলোতে তাদের অভ্যর্থনা জানাই, আপ্যায়ন করি। কখনও কখনও তাদের থাকার ব্যবস্থা করে থাকি।

এই স্থানগুলোর মধ্যে আছে-

  • বসার ঘর বা ড্রইং রুম
  • খাওয়ার ঘর
  • অতিথি ঘর
  • গাড়ি বারান্দা
  • সিঁড়ি ইত্যাদি।

অনানুষ্ঠানিক স্থান- অনানুষ্ঠানিক স্থান বলতে বোঝায় সাধারণত আমরা যে স্থানগুলোতে ব্যক্তিগত বা একান্ত নিজের কাজগুলো করে থাকি। এখানে আমরা বিশ্রাম নেই, ঘুমাই, পড়াশোনা করি, সাজসজ্জা করি ইত্যাদি। এই স্থানগুলোতে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরাই তাদের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে থাকে। তাই এখানে কিছুটা গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। অনানুষ্ঠানিক স্থানগুলোর মধ্যে পড়ে-

  • শোবার ঘর
  • পড়ার ঘর
  • সাজসজ্জার ঘর ইত্যাদি।

কাজের স্থান- এই স্থানে প্রতিদিন গৃহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হয়ে থাকে। যেমন- রান্না করা, বিভিন্ন রকম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, বিভিন্ন দ্রব্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা ইত্যাদি।
রান্নার কাজের মধ্যে খাবার রান্নার জন্য প্রস্তুতি অর্থাৎ কোটা, বাছা, ধোওয়া, মসলা বাটা ইত্যাদি থেকে শুরু করে রান্না করা সবই থাকে। তাছাড়া খাবার পরিবেশন করার জন্য বাসনপত্র, গ্লাস, জগ, চামচ, ছুরি, কাঁটা চামচ, টেবিল ম্যাট ইত্যাদি যথাযথভাবে রাখার কাজগুলো হয়ে থাকে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে পড়ে কাপড়-চোপড় ধোওয়া, ইস্ত্রি করা, ঘর মোছা বা লেপা, সিলিং, দরজা- জানালার গ্রিল ও কাঁচ, বাথরুম, টয়লেট, ঘরের আঙিনা ইত্যাদি পরিষ্কার করা। কাজের স্থানগুলো হলো-

  • রান্না ঘর
  • বাথরুম ও টয়লেট
  • ভাঁড়ার ঘর বা চাল, ডাল শস্য ইত্যাদি সংরক্ষণের স্থান
  • কাপড়, তৈজসপাতি বা বাসন পেয়ালা ধোয়ার স্থান
  • কোটা-বাছার স্থান
কাজ ১- তোমার বাড়িতে তোমার বন্ধু পরিবারসহ বেড়াতে এলে তাকে কোথায় কীভাবে অভ্যর্থনা করবে?
কাজ ২- বাড়ির অনানুষ্ঠানিক স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে কী কী কাজ করা হয় লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

একটি পরিবারের সদস্যরা গৃহের অভ্যন্তরীণ কিছু স্থানে তাদের ব্যক্তিগত কাজগুলো করে থাকে। এই স্থানগুলোতে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

প্রয়োজনীয় জিনিস যথাস্থানে সংরক্ষণ (পাঠ ৩)

1k

শাহেদ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা গোছায়। স্কুল থেকে বাসায় ফিরে এসে স্কুলের ব্যাগ, বই, খাতা, জামা-প্যান্ট, জুতা-মোজা ইত্যাদি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখে। প্রতিদিন পড়ালেখা শেষ করে বই, খাতা, পেন্সিল, কলম সব গুছিয়ে রাখে। বিকেলে খেলা শেষে খেলার সামগ্রীগুলো ঠিক জায়গায় রাখে। ফলে প্রয়োজনের সময় সে সবকিছু হাতের কাছে পায়। প্রত্যেকটা জিনিসের ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। তাই পরিবারের সবাইকে ব্যবহারের পর জিনিসগুলো যথাস্থানে গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করতে হবে। জিনিসপত্র যথাস্থানে যত্ন সহকারে রাখলে সেগুলো টেকসই হয়। গৃহের পরিবেশ থাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। প্রয়োজনের সময় সেগুলো সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। ফলে খোঁজাখুঁজিতে অযথা সময় ও শক্তি অপচয় হয় না। এছাড়া জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে গৃহের সৌদর্য নষ্ট হয় ও বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা থাকে।

গৃহের বিভিন্ন রকম কাজের সুবিধার জন্য আমরা অনেক রকম সাজসরঞ্জাম ও উপকরণ ব্যবহার করে থাকি। যেমন-

রান্না ও খাবার পরিবেশনের সরঞ্জাম- হাঁড়ি, কড়াই, খুন্তি, চামচ, বঁটি, ছুরি, প্রেসার কুকার, ব্লেন্ডার, ওভেন, চুলা ইত্যাদি। এর মধ্যে যেগুলো প্রতিদিন ব্যবহার হয়, সেগুলো রান্না ঘরের তাকে হাতের কাছে রাখা ভালো। আর যেগুলো প্রতিদিন ব্যবহার হয় না, সেগুলো কেবিনেট বা উপরের দিকে রাখা হয়। খাবার পরিবেশনের জন্য প্লেট, গ্লাস, জগ, চামচ, কাঁটাচামচ, ট্রে ইত্যাদি খাবার ঘরে তাকে সাজিয়ে রাখতে পারি।

সেলাইয়ের সরঞ্জাম-এর মধ্যে প্রধান হলো সেলাই মেশিন যা আমরা ঘরের যেকোনো একটা কোনায় রেখে থাকি। সূচ, কাঁচি, ফিতা, বোতাম, সুতা, ইত্যাদি উল্লিখিত অন্যান্য উপকরণ গুলো একটা বাক্সে করে মেশিনের কাছে রাখি।

বাগান করার সরঞ্জাম- ঝাঁঝরি, পানির পাইপ, শাবল, কোদাল, দা, কাঁচি ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার করে একটা কোণে নির্দিষ্ট তাকে অথবা স্টোর রুমেও রাখা যায়।

লন্ড্রির সরঞ্জাম- বালতি, মগ, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি। এগুলো বাথ রুমে রাখা হয়। ইস্ত্রিটা ইস্ত্রির বোর্ডের সাথে রাখা যায়।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম- ঝাড়ু, ঝুলঝাড়ু, ঘরমোছার সামগ্রী, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ইত্যাদি। এগুলো আমরা স্টোর রুমের একটা কোনায় রাখতে পারি।

পোশাক-পরিচ্ছদ- দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাক-পরিচ্ছদগুলো আমরা আলনা বা ওয়াড্রোবে রাখি। উৎসবে পরার পোশাক বা মৌসুমি পোশাকগুলো আমরা আলমারিতে বা বাক্সে রাখি। এছাড়া জুতা, স্যান্ডেল, মোজা ইত্যাদি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার অভ্যাস করা উচিত। এগুলো রাখার জন্য আলনার নিচের তাক বা জুতার তাক ব্যবহার করতে পারি।

পড়ালেখার উপকরণ- পড়ালেখার উপকরণগুলো যেমন বই, খাতা, কলম ইত্যাদি পড়ার টেবিলের কাছে কোনো তাকে গুছিয়ে রাখি। তাক না থাকলে টেবিলের উপরেও সেগুলো গুছিয়ে রাখতে পারি।

প্রসাধন সামগ্রী- সাজসজ্জার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করি। যেমন- সাবান, শ্যাম্পু, চিরুনি, স্নো-পাউডার, কোল্ড ক্রিম, লিপস্টিক, পারফিউম, শেভিং ব্রাশ, রেজার ইত্যাদি। এগুলো ড্রেসিং টেবিল বা ড্রেসিং রুমের কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে সুবিধা হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ- তুলা, ব্যান্ডেজ, ডেটল, গরম বা বরফ পানির ব্যাগ, স্পিরিট, বার্নল, ব্যথা কমার ওষুধ, অ্যান্টিসেপটিক পাউডার বা মলম ইত্যাদি। এগুলো আমরা একটা নির্দিষ্ট বাক্সে রাখি, যাকে বলে 'প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স'। এটা একটু উঁচু স্থানে রাখতে হয়। তবে তা যেন সবাই দেখতে ও জানতে পারে।

বিবিধ- বিবিধ জিনিসের মধ্যে আছে- পুরনো খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি। এ জিনিসগুলো যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না থাকে, সেজন্যে কোনো বাক্সের ভিতরে রেখে দিতে পারি। যাতে ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট না হয়।

কাজ- ১ প্রতিদিন তুমি যে সব জিনিস ব্যবহার করো, সেগুলো কোথায় রাখো-তার একটা তালিকা করো।
কাজ-২ তোমার বাসার প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্সে কী কী থাকা দরকার সেগুলো লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

ছোট ভাইয়ের হাত পুড়ে গেলে সোহানা শোকেসের উপর থেকে একটি বাক্স এনে সেখান থেকে বার্ণল বের করে লাগিয়ে দিলো।

ঔষধের বাক্স
প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স
সেলাইয়ের সরঞ্জামের বাক্স
প্রসাধন সামগ্রীর বাক্স

গৃহ পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনে গাছ (পাঠ ৪)

1.7k

সুমি তার বাবার সহায়তায় বাড়ির ছোট প্রাঙ্গণে শাক সবজি ও ফলের বাগান করেছে। আর বারান্দায় টবে ফুলের গাছ লাগিয়েছে। প্রতিদিন সে গাছগুলোতে পানি দেয়, আগাছা পরিষ্কার করে। নিজ হাতে শাক সবজি, ফল তুলে আনে। টাটকা শাক সবজি, ফল খেয়ে ওদের পরিবারের সবার স্বাস্থ্য ভালো ও মন প্রফুল্ল থাকে।

সুমির মতো আমরাও গৃহ ও গৃহের পরিবেশ উন্নত করার জন্য বিভিন্ন রকম গাছ লাগাতে পারি। শহরে আমরা ফ্ল্যাট বাড়ির বারান্দা ও ছাদে টবে বিভিন্ন রকম গাছ লাগাতে পারি। গাছ থেকে আমরা অনেক উপকার পাই। যেমন-

  • গাছ আমাদের অক্সিজেন জোগায়, যা আমরা শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে নিয়ে থাকি।
  • শাকসবজি ও ফল গাছ পরিবারের সদস্যদের পুষ্টি জোগায়।
  • ফুল গাছ গৃহের শোভা বাড়ায়।
  • বড় গাছ বাড়িতে ছায়া দেয়, পরিবেশকে আরামদায়ক করে।

অনেক বাড়িতে খোলা প্রাঙ্গণ থাকে। সে জায়গাগুলোকে পরিষ্কার করে বাড়ির সামনের অংশে ফুলের বাগান ও পিছনের অংশে সবজি, ফলের বাগান করা যায়।

টবে ও গৃহের আঙিনায় গাছ লাগানো ও পরিচর্যা

টবে বা আঙিনায় দুইভাবে গাছ লাগানো যায়-

  • বীজ পুঁতে
  • চারা গাছ লাগিয়ে।

আঙিনায় গাছ লাগানোর জন্য প্রথমে জায়গাটাকে প্রস্তুত করে নিতে হয়। আঙিনা হলে আগাছা পরিষ্কার করে, কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটি আলগা ও সমতল করে দিতে হবে। মাটির উর্বরতার জন্য মাটিতে গোবর বা জৈব সার মেশাতে হয়। এর পর বীজ বা চারা রোপণ করতে হয়। আঙিনায় ছোট, বড় সব গাছই লাগানো যায়। এখানে আম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারি, পেয়ারা ইত্যাদি গাছ লাগাতে পারি। তাছাড়া বিভিন্ন মৌসুমি শাক সবজির চাষও করা যায়।

আঙিনা না থাকলে ছোট বড় টবে বিভিন্ন সবজি, কলম করা গাছ, বিভিন্ন মৌসুমি ফুল লাগানো যায়। এই ক্ষেত্রে টবের মাঝে ছিদ্র বরাবর একটি মাটির চাড়া রাখতে হবে। তার উপর ইটের খোয়া ও শুকনা পাতা রেখে সারযুক্ত মাটি এমনভাবে ভরতে হবে যাতে টবের উপর দিকে ২ ইঞ্চি পরিমাণ খালি থাকে।
বীজ থেকে চারা গজালে নিয়মিত গাছে পানি দিতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও থাকা দরকার। মাঝে মাঝে চারার গোড়ার মাটি নিড়ানির সাহায্যে আলগা করে দিতে হয়। এতে মাটিতে সূর্যের আলো, বাতাস প্রবেশ করতে পারে এবং মাটির রস ধারণ ক্ষমতা বাড়ে।

গাছের গোড়ায় কোনো আগাছা হলে, তা সাথে সাথে তুলে ফেলতে হবে। কারণ আগাছা গাছের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। অনেক সময় গাছে পোকা মাকড়ের উপদ্রব দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
সুতরাং তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ যে ভালো গাছের জন্য প্রয়োজন-

  • সতেজ চারা বা পুষ্ট বীজ
  • আলো, বাতাস, পানি
  • সারযুক্ত ভালো মাটি
  • নিয়মিত পরিচর্যা
কাজ ১- টবে একটা ফল গাছ লাগানোর পদ্ধতি বর্ণনা করো।
কাজ ২- গাছের নিয়মিত পরিচর্যা বলতে তুমি কী কী করণীয় মনে করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

বৃক্ষমেলা থেকে এশা বেশ কিছু ফুলের চারা কেনে। কিন্তু বাড়িতে জায়গা না থাকায় তার বাবা চারাগুলো অন্যভাবে লাগানোর পরামর্শ দিলেন। এছাড়া তিনি গাছের উপকারিতা সম্পর্কে বলেন।

অনুশীলনী

592
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. নিচের কোনটি আনুষ্ঠানিক স্থান?
ক. খাওয়ার ঘর
খ. শোবার ঘর
গ. পড়ার ঘর
ঘ. সাজসজ্জার ঘর

২. আদিম মানুষের পরিবার গঠনের কারণ-
i. আশ্রয়স্থলের নিরাপত্তা
ii. একত্রে চাষাবাদের সুবিধা
পারস্পরিক সহযোগিতা পাওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও
অনিতা নামকরা নার্সারি থেকে একটি মরিচের চারা কিনে আনল। তারপর মাটি ভর্তি টবে রোপণ করে তার পড়ার ঘরে রাখল। সেই সাথে মরিচ গাছের রোগবালাই দমনে কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় তাও জানল। অনিতা গাছে নিয়মিত পানি দিত। তারপরও গাছটির যথাযথ বৃদ্ধি হলো না এবং মরিচও ধরল না।
৩. গাছটি বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণ কী?
ক. উপযুক্ত কীটনাশকের অভাব
খ. পর্যাপ্ত আলো বাতাসের অভাব
গ. অপুষ্ট চারা রোপণ
ঘ. টবে চারা লাগানো

8. অনিতার গাছের যথাযথ বৃদ্ধির জন্য দরকার-
i. পর্যাপ্ত সার ব্যবহার করা
ii. টবটি বারান্দায় নিয়ে রাখা
iii. পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া
ক. i ও ii
খ. ii ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন
১.
রাইয়ানের মাকে কিছুদিন পর পর রাইয়ানের জন্য খাতা, পেন্সিল, রাবার, খেলার বল কিনে দিতে হয়। একদিন খেলার মাঠ থেকে ফিরে রাইয়ান তার ব্যাট বল জুতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখলে তাতে হোঁচট খেয়ে তার ছোট বোন রুপার কপাল কেটে যায়।
ক. শিশুর জীবনের প্রথম পরিবেশ কোনটি?
খ. প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কী বোঝায়?
গ. রাইয়ানের কোন অভ্যাসের জন্য রুপা ব্যথা পেল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রাইয়ানের এ ধরনের অভ্যাস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব ফেলে? বুঝিয়ে লেখো

২.

ক. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কী করতে হয়?
খ. গৃহের অনানুষ্ঠানিক স্থান বলতে কী বোঝায়?
গ. ২নং চিত্রের গৃহ পরিবেশটি কেমন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ১নং চিত্রের গৃহ পরিবেশটি পরিবারের সদস্যদের 'সুস্থ' বিকাশের জন্য প্রধান অন্তরায়। বুঝিয়ে লেখো।

Content added By

গৃহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (দ্বিতীয় অধ্যায়)

3.2k
Please, contribute by adding content to গৃহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আসবাবপত্র রং করা
বাক্সে তোলা কাচের জিনিস ধোয়া
রান্না ঘরের তাক পরিষ্কার করা
বই খাতা গোছানো

গৃহের অভ্যন্তরীণ স্থানের পরিচ্ছন্নতা (পাঠ ১)

1.2k

আমরা সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। এর জন্য দরকার একটা স্বাস্থ্যসম্মত গৃহ। যেখানে বাস করলে আমাদের শরীর ও মন ভালো থাকবে। এই গৃহের পরিবেশকে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে হলে এর ভিতরের ও বাইরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি গৃহ আমাদের দিতে পারে আরাম ও সুস্থতা। আমাদের গৃহের প্রতিটি জায়গা এবং এর আনাচে-কানাচে পরিষ্কার রাখতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গৃহ পরিবেশে মশা-মাছি পোকামাকড়ের উপদ্রব থাকে না, ফলে রোগজীবাণু সহজে ছড়াতে পারে না। দূষণমুক্ত পরিবেশে বাস করতে পারলে আমাদের শরীর ও মন ভালো থাকবে।

অভ্যন্তরীণ স্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: গৃহের অভ্যন্তরে আমরা বেশি সময় থাকি, নানারকম কাজ করি, বিশ্রাম নেই। সেজন্যে এর সব জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা দরকার।

অভ্যন্তরীণ স্থানে যেসব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হয়-

  • ঘরের মেঝে ঝাড়ু দেওয়া, মোছা বা লেপা।
  • দরজা, জানালার গ্রিল, কাঁচ পরিষ্কার করা।
  • দেয়াল, সিলিং, বৈদ্যুতিক পাখা পরিষ্কার করা।
  • কাপড়-চোপড় ধোওয়া।
  • সিঙ্ক, বেসিন, কলতলা পরিষ্কার করা।
  • আসবাবপত্র ঝাড়া, মোছা, রং করা।
  • বাতিল ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা।
  • বাথরুম, টয়লেট পরিষ্কার করা।
  • বাড়িতে রং এবং মেরামত করা ইত্যাদি।

কিছু কিছু পরিষ্কার করার কাজ প্রতিদিন করতে হয়। আবার কিছু কিছু কাজ সপ্তাহে, মাসে বা বছরে একবার করলেও হয়। অন্যান্য কাজের মতো গৃহ পরিষ্কার করার কাজগুলোরও একটা পরিকল্পনা করে নিতে হয়।

অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়া যায়।

(১) দৈনিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : প্রতিদিন সব ঘর, বারান্দা ঝাড়ু দেওয়া ও মোছা বা মাটির ঘর লেপা, আসবাবপত্রের উপরিভাগ মোছা, বিছানা গোছানো, বই, খাতা গোছানো, রান্নাঘর ও অন্যান্য ঘরের দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখা, প্রতিদিনের ব্যবহার করা কাপড় ধোওয়া। এছাড়া কলতলা, বেসিন, সিঙ্ক, গোসলখানা, পায়খানা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়। প্রতিদিনের ময়লা, আবর্জনা সরিয়ে ফেলাও দৈনিক পরিচ্ছন্নতার কাজ।

(২) সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : দেওয়াল ও সিলিং এর ঝুল ঝাড়া, দরজা-জানালার গ্রিল, কাচ ঝাড়া ও মোছা, বৈদ্যুতিক পাখা পরিষ্কার করা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার ধোওয়া, রান্নাঘরের তাক পরিষ্কার করা, কার্পেট থাকলে তা ঝাড়া ও রোদে দেওয়া। ফ্রিজ থাকলে তার ভিতর ও বাইরে পরিষ্কার করা ইত্যাদি সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতার মধ্যে পড়ে।

(৩) বাৎসরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আসবাবপত্র রং করা, বড় বড় আসবাবপত্র সরিয়ে মেঝে পরিষ্কার করা, বাড়ি মেরামত ও চুনকাম করা, বাক্সে বা আলমারিতে তোলা কাপড়, কাঁথা, লেপ, তোশক, কম্বল রোদে দেওয়া। এছাড়া কাঁচের বা কাঠের আলমারি বা বাক্সে তোলা কাচের প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি ধোওয়া ও মোছা বাৎসরিক পরিচ্ছন্নতার মধ্যে পড়ে।

যেহেতু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো অনেক ধরনের এবং যথেষ্ট কষ্টকর। তাই বাড়ির ছোট বড় সব সদস্যদের বয়স, শক্তি, দক্ষতা, অনুসারে কাজগুলো ভাগ করে দিতে হবে। ছোটরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশগ্রহণ করে এ ব্যাপারে সচেতন ও যত্নশীল হয়ে গড়ে উঠবে। তারা গৃহ পরিবেশ সম্বন্ধে সচেতন হবে এবং দায়িত্ব নিতে শিখবে।

গৃহ পরিষ্কার করার সামগ্রী :

ফুল ও শলার ঝাড়ু, প্লাস্টিকের বালতি, মগ, মাটির গামলা, ব্রাশ, ঝুলঝাড়ু, মই, নারিকেলের ছোবড়া বা নাইলনের মাজুনী, নরম সুতি কাপড় বা তোয়ালে, সাবান, ভিম বা ব্লিচিং পাউডার, পুরনো খবরের কাগজ ইত্যাদি।

কাজ-১ গৃহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য কোন কাজগুলো তুমি করো, তার একটা তালিকা তৈরি করো।
কাজ-২ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোন কাজের জন্য কী কী সামগ্রী দরকার, তা চার্টের মাধ্যমে দেখাও।
Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

কোনো কাজ কেন করা হবে, কীভাবে করা হবে, কে বা কারা করবে ইত্যাদি সম্বন্দ্বে 'আগে থেকেই ঠিক করা যায়। গৃহ ব্যবস্থাপনার একটি ধাপের মাধ্যমে। ফলে কোন কাজ কখন করা হবে তা বোঝা সহজ হয়।

উদ্দীপকটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

সুগৃহিনী কেয়া তার গৃহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেন। তিনি এ কাজে পরিবারের ছোট সদস্যদেরও সহযোগিতা নিয়ে থাকেন।

পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা
কাজ কম করা
কাজের গুরুত্ব বোঝানো
সামাজিকতা শেখানো
অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

হেলেনা সব সময় গ্রীষ্মের ছুটিতে তার বাড়ি মেরামত করেন। বাড়ি মেরামতের ফলে সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে পড়ে। তাই তিনি তার ছেলেমেয়েদের কিছু কিছু কাজ ভাগ করে দেন যাতে তাড়াতাড়ি ঘরবাড়িগোছানো যায়।

বহিরাঙ্গনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (পাঠ ২)

539

সুস্থতা ও মানসিক তৃপ্তি বজায় রাখার জন্য গৃহের ভিতরের মতো এর বাইরের স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

গৃহের বাইরের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখার জন্য যে সব ব্যবস্থা থাকতে হবে-

  • আঙিনায় ঝরে পড়া পাতা, শুকনা ডাল ইত্যাদি সরিয়ে ফেলা।
  • গৃহের চারপাশে ঝোপঝাড় না হতে দেওয়া।
  • ঘাস কাটা ও আগাছা পরিষ্কার করা।
  • ছাদ বা চালা পরিষ্কার রাখা।
  • নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি।

বহিরাঙ্গনে বড় গাছ থাকলে, বছরে একবার ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছের ভালো বৃদ্ধি হয়, বাড়িঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে। ঘরের ছাদ বা চালা সপ্তাহে একদিন ভালো করে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের ছাদে যেন পানি জমে না থাকে সে দিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ছাদে পানি জমে ঘরের দেয়াল, সিলিং স্যাঁতসেতে হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। টিনের চালা ফুটো হয়ে গেলে তা মেরামত করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন টিন লাগাতে হবে।

বহিরাঙ্গনে বড় গাছ থাকলে, বছরে একবার ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছের ভালো বৃদ্ধি হয়, বাড়িঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে। ঘরের ছাদ বা চালা সপ্তাহে একদিন ভালো করে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের ছাদে যেন পানি জমে না থাকে সে দিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ছাদে পানি জমে ঘরের দেয়াল, সিলিং স্যাঁতসেতে হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। টিনের চালা ফুটো হয়ে গেলে তা মেরামত করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন টিন লাগাতে হবে।

শহরাঞ্চলে নালা-নর্দমার সাহায্যে বাড়ির ময়লা পানি, তরল বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে মাটির নিচের বড় পাইপে যেয়ে পড়ে। নালা-নর্দমার উপরিভাগ খোলা থাকলে নিয়মিত এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। বাড়ির আবর্জনা, পলিথিনের ব্যাগ ইত্যাদি নালায় ফেললে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ময়লা পানি উপচে পড়ে পরিবেশকে দূষিত করবে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। লম্বা হাতওয়ালা ব্রাশ, বাঁশের চটা ইত্যাদি দিয়ে আমরা প্রতিদিন নালা-নর্দমার পানি চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখব। জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য মাঝে মাঝে ফিনাইল, ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে।

বাড়ির আঙিনায় কোথাও যেন বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সেজন্যে মাটিতে পানি সরে যাবার নালা তৈরি করে দিতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করে। ফলে ডেঙ্গুজ্বর হবার আশঙ্কা থাকে।

অনিক মাঝে মাঝেই স্কুলে যায় না। প্রায় সারা বছরই সে সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত থাকে। ফলে তার মন ভালো থাকে না। কোনো কাজেই আনন্দ পায় না। বন্ধুরা একদিন ওর বাড়িতে যেয়ে দেখল, বাড়িটা খুবই স্যাঁতসেতে ও অন্ধকার। বাড়িটার আঙিনায় বড় বড় গাছের ডালপালা কাটা হয় না বলে সূর্যের আলো, বাতাস সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। বাড়ির পরিবেশটা স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়ায় অনিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকতে হলে গৃহের ভিতর ও বাইরের সব পরিবেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

কাজ-১ : গৃহের বাইরের স্থানগুলো পরিষ্কার রাখতে তুমি তোমার পরিবারকে কীভাবে সাহায্য করতে পার?
কাজ-২ : সহপাঠীরা মিলে তোমরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গন পরিষ্কার করবে। কে কী কাজ করবে তার একটা তালিকা তৈরি করো।
Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুশীলনী

283
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কোনটি সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতার কাজ?
ক. আসবাবপত্র রং করা
খ. বাক্সে তোলা কাচের জিনিস ধোয়া
গ. রান্না ঘরের তাক পরিষ্কার করা
ঘ. বই খাতা গোছানো

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ২ নং ও ৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
শান্তা তার বাড়ির আঙিনায় 'মাটি সমতল করে ফুল ও সবজি বাগান করল। সে নিয়মিত বাগানের আগাছা পরিষ্কার করে ও বাগানের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে।

২. বাগান করার মাধ্যমে শান্তা পরিচ্ছন্নতার কোন কাজটি করে?
ক. সাপ্তাহিক
খ. অভ্যন্তরীণ
গ. বাৎসরিক
ঘ. বহিরাঙ্গন

৩. বাগান করা থেকে শান্তা যে সুবিধা পেতে পারে তা হলো-
i. বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা
ii. বাড়ির শোভাবর্ধন
iii. পুষ্টির চাহিদা পূরণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও ii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১.বহুতল ভবনের মাঝখানে সেমিপাকা বাড়িতে শাহানা তার পরিবার নিয়ে বসবাস করে। তার বাড়ির আঙিনার চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। একপাশে খোলা নর্দমা উপচে তরল ময়লা আঙিনায় চলে আসে। এতে তার বাড়িতে মশা মাছির উপদ্রব খুব বেড়ে গেছে।
ক. এডিস মশা কোন রোগ ছড়ায়?
খ. বাৎসরিক পরিচ্ছন্নতা বলতে কী বোঝায়?
গ. শাহানার বাড়িতে কোন ধরনের পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শাহানার গৃহ পরিবেশ সুস্বাস্থ্যের অন্তরায়-বুঝিয়ে লেখো।

Content added By

গৃহ ব্যবস্থাপনা (তৃতীয় অধ্যায়)

826
Please, contribute by adding content to গৃহ ব্যবস্থাপনা.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

মিসেস সাদিয়া একজন সচেতন গৃহিণী। তিনি তার ছেলেকে ডাক্তারি পড়ানোর সুদীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন এবং সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক বেশি যত্নশীল ও সচেতন ছিলেন। আজ তার ছেলে এদেশের স্বনামধন্য একজন ডাক্তার।

গৃহ ব্যবস্থাপনার ধারণা (পাঠ ১)

493

তোমরা ইতোমধ্যে গৃহ ও এর পরিবেশ সম্পর্কে জেনেছ। আমরা সবাই চাই আমাদের গৃহটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়, সুশৃঙ্খল হয়। আমাদের সব আশা, আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা পূরণ এই গৃহেই হয়ে থাকে। আর ইচ্ছে বা উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করতে হলে বিভিন্ন রকম কাজ করতে হয়। কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্যবস্থাপনা দরকার হয়। তুমি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ যে, তোমাদের বাড়িতে রোজ অনেক রকম কাজ হয়। কখনো কি ভেবে দেখেছ, কাজগুলো-

  • কে বা কারা করছে?
  • কেন করা হচ্ছে?
  • কীভাবে করা হচ্ছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের কর। দেখবে পরিবারের বিভিন্ন সদস্য যৌথভাবে কাজগুলো করছে। তারা তাদের সময়, বুদ্ধি, টাকা-পয়সা শ্রম ইত্যাদি সম্পদ ব্যবহার করে কাজগুলো করছে, পরিবারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য। প্রতিটা পরিবারের অনেক লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে। লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য তারা উপায় খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। প্রথমে তারা লক্ষ্য ঠিক করে কাজ করার একটা পরিকল্পনা করে। কীভাবে করবে তা চিন্তা করে। তারপর পরিবারের সদস্যরা মিলে কাজগুলো সম্পন্ন করে। সবশেষে কাজের ভালো-মন্দ ফলাফল যাচাই করে দেখে যে, কাজটাতে সফলতা এলো কি না।

অর্থাৎ আমরা বলতে পারি, পরিবারের লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করাকে এক কথায় গৃহ ব্যবস্থাপনা বলে।

গৃহ ব্যবস্থাপনা একটি ধারাবাহিক কর্মপদ্ধতি যা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। গৃহ ব্যবস্থাপনা গৃহের সব কর্মকাণ্ডকে সচল রাখে।

পরিকল্পনা-গৃহ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রথম ধাপ পরিকল্পনা করা। যে কোনো কাজ করতে হলে আগে কাজটি কেন করা হবে, কীভাবে করা হবে, কে বা কারা করবে ইত্যাদি সম্বন্ধে ভাবনা-চিন্তা করার নামই পরিকল্পনা। পরিকল্পনা করে নিলে কোন কাজ কখন করা হবে তা সহজেই বোঝা যায়।

সংগঠন

বিভিন্ন কাজের মধ্যে সংযোগ সাধন করা অর্থাৎ কাজ, কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই হলো সংগঠন।

নিয়ন্ত্রণ

পরিকল্পনা বাস্তবে কাজে পরিণত করার জন্য নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ও সংগঠনের বিভিন্ন ধারাকে কার্যকর করাই নিয়ন্ত্রণ।

মূল্যায়ন

গৃহ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সর্বশেষ ধাপের নাম মূল্যায়ন। কাজের ফলাফল ভালো না মন্দ তা যাচাই করাই মূল্যায়ন। কাজটির সফলতা বা ব্যর্থতা, মূল্যায়ন করার ফলেই বোঝা যায়। ফলে ভবিষ্যতে কাজটি সহজেই নির্ভুলভাবে করা যায়।

কাজ-১ তোমার পরিবারের একটা লক্ষ্য হচ্ছে তোমাকে শিক্ষিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে তুমি কী কী করছ? তালিকা করো।
কাজ-২ তোমার পরিবারে যে কজন সদস্য আছে, তারা একদিনে কে, কী কী কাজ করছে, তা লিপিবদ্ধ করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সঠিক কাজের জন্য
সুন্দর কাজের জন্য
পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য
জীবনকে সুন্দর করার জন্য

গৃহ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার গুরুত্ব (পাঠ ২)

601

পরিকল্পনার মাধ্যমেই আমরা ঠিক করে নেই, কোন কাজের পর কোনটা করব, কখন, কীভাবে করব ইত্যাদি। পরিকল্পনা করে নিলে কাজ করাটাও সহজ হয়ে যায়। কাজের পরিকল্পনাটা সব সময় লিখিতভাবে করতে হয়, যাতে মনে থাকে।

পরিকল্পিত কাজ: যে কাজ পরিকল্পনার মাধ্যমে করা হয়, তাই পরিকল্পিত কাজ। পরিকল্পনা করে কাজ করলে, ভুল ত্রুটি কম হয় এবং সময়মতো কাজটা সম্পন্ন হয়।

পরিকল্পিত কাজের সুবিধা-

  • সারাদিন কোন কাজের পর কোন কাজ করা হবে তা জানা যায়।
  • সব কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা যায়।
  • কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায় না।
  • সময়, শক্তি, টাকা-পয়সা ইত্যাদি সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয়।
  • যে কোনো কাজেই সফল হওয়া যায়।
কাজ - ১ সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য আগের দিন পরিকল্পনা করে তুমি কী কী কাজ কর তার একটি তালিকা তৈরি করো।

অপরিকল্পিত কাজ: পরিকল্পিত কাজের বিপরীত কথাটাই হলো অপরিকল্পিত কাজ।

কল্পনা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। আজ তার অঙ্ক শ্রেণি-পরীক্ষা হলো। গতকাল স্কুল থেকে বাসায় এসে সে বন্ধুর সাথে ফোনে গল্প করেছে। সন্ধ্যার পর অনেকক্ষণ টেলিভিশন দেখেছে। রাতে খাবার পর শুধু ছবি এঁকেছে। অযথা সময় নষ্ট করার ফলে পরীক্ষার জন্য সে কোনো রকম প্রস্তুতি নিতে পারেনি। ফলে দেখা গেল যে তার পরীক্ষাটা ভালো হলো না এবং ভালো নম্বরও পেলনা।

আমাদের জীবনে লক্ষ্য অনেক, তাই অনেক কাজও করতে হয়। সেজন্যই পরিকল্পনা না থাকলে আমরা সব কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে পারব না। অপরিকল্পিত বা অগোছালো কাজ কখনও সফলতা আনে না।

কাজ - ২ অপরিকল্পিত কাজের অসুবিধাগুলো কী তালিকা করো।
কাজ - ৩ তুমি কোন কাজগুলো পরিকল্পনা করে কর আর কোনগুলো পরিকল্পনা ছাড়া কর তার একটি তালিকা করো।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

শুক্রবার দুপুরের পর রিতা স্কুলের জামাকাপড়, জুতা মোজা ধুয়ে শুকাতে দিল। কিন্তু রোদ না থাকায় সেগুলো ভেজা থাকে এবং পরদিন সে স্কুলে যেতে পারে না।

গৃহ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ (পাঠ ৩)

393

যেকোনো কাজ করার অনেকগুলো পন্থা বা উপায় থাকে। সেগুলোর মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভালো উপায়টাকে আমরা যখন গ্রহণ করি সেটাই হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই দরকার। এটা কাজ শুরুর আগে প্রথম পদক্ষেপ। সিদ্ধান্ত গ্রহণ সঠিক হলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। আর যদি সিদ্ধান্তটাই ভুল হয়ে যায়, তাহলে কখনই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না। সময় ও কাজের প্রয়োজনে আমাদের প্রায়ই নতুন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।
রমেশ তার পরিবারের সাথে শীতকালীন ছুটিতে কক্সবাজারে যেতে চাইল। পরিবারের সবাই আলোচনা করে তারা প্লেনের পরিবর্তে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেন এবং তারপর বাসে কক্সবাজার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা চিন্তা করে দেখল যে, প্লেনের যাতায়াত ভাড়া অনেক বেশি। তাছাড়া ট্রেনে এবং এরপর বাসে গেলে অনেক জায়গা দেখতে পাবে এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে। ফলে ভ্রমণটা অনেক আনন্দদায়ক হবে।
গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রতিটা ধাপেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করলে আমরা অবশ্যই সফল হব। সিদ্ধান্ত দুই রকমের হতে পারে। যথা-

(i) একক সিদ্ধান্ত
(ii) দলীয় সিদ্ধান্ত
একক সিদ্ধান্ত: ছোট সমস্যায় পড়লে বা অবস্থার পরিবর্তনে তুমি নিজেও সমাধানের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারো। যাকে বলে একক সিদ্ধান্ত।

দলীয় সিদ্ধান্ত: পরিবারে এমন অনেক সমস্যা দেখা দেয়, যেগুলো কিছুটা জটিল। সেগুলোর ক্ষেত্রে দেখবে তোমার মা বা বাবা, পরিবারের ছোট-বড় সব সদস্যের সাথে আলোচনা করে কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, যাকে বলে দলীয় সিদ্ধান্ত। দলীয় সিদ্ধান্তে অনেকের মতামত পাওয়া যায়। ফলে সমস্যা সমাধানের অনেক পথও জানা যায়। সেগুলো থেকে যেকোনো একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কিছু ধারাবাহিক নিয়ম আছে। সেগুলো হচ্ছে-

  • প্রথমে সমস্যাটা বুঝতে হবে এবং সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।
  • সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটা পন্থা বা উপায় খুঁজতে হবে।
  • পন্থাগুলোর প্রত্যেকটা সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে।
  • যে উপায় বেশি ভালো মনে হবে অর্থাৎ যে উপায় অবলম্বন করলে সমস্যা সহজেই সমাধান করা যাবে সেটা গ্রহণ করতে হবে।
  • যে উপায় বা পন্থা গ্রহণ করা হলো, সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটাকে অবশ্যই কাজে পরিণত করতে হবে। তা না হলে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সেটা কোনো উপকারে আসবে না।
কাজ-১ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য তুমি কীভাবে একা সিদ্ধান্ত নিতে পারো?
কাজ-২ বন্ধুরা মিলে দলীয় সিদ্ধান্তে তোমার স্কুলে একটা ফুলের বাগান করার পরিকল্পনা করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

নিলুফা বেগম তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাবেন। সবার সাথে আলোচনা করে তিনি ট্রেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

অনুশীলনী

290

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কোনটি গৃহব্যবস্থাপনার শেষ ধাপ?
ক. পরিকল্পনা
খ. নিয়ন্ত্রণ
গ. মূল্যায়ন
ঘ. সিদ্ধান্ত গ্রহণ

২. পরিকল্পিত কাজের সুবিধা হচ্ছে-
i. সময়মতো সব কাজ হয়ে যায়
ii. যখন যা মনে আসে তা করা যায়
সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

লায়লা যে কোনো পারিবারিক কাজ করার পর কাজটির সফলতা বা ব্যর্থতা যাচাই করে। তাই সকলেই তার কাজের প্রশংসা করে।
৩. লায়লা ব্যবস্থাপনার কোন ধাপটি অনুসরণ করে?
ক. পরিকল্পনা
খ. মূল্যায়ন
গ. নিয়ন্ত্রণ
ঘ. সিদ্ধান্ত গ্রহণ

8. পরিকল্পিত কাজের সুবিধা হচ্ছে-
i. পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগে
ii. ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ
সময়মতো কাজ শেষ করা হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন
১. লামিয়া ও লতিফ একই শ্রেণিতে পড়ে। লামিয়া প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী বই খাতা নিয়ে স্কুলে যায়। অপর দিকে লতিফ ক্লাস অনুযায়ী বই আনে না। ফলে লতিফ শিক্ষকের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারে না।
ক. গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ কোনটি?
খ. অপরিকল্পিত কাজ বলতে কী বোঝায়?
গ. লামিয়ার স্বভাবে ব্যবস্থাপনার কোন ধাপের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। ব্যাখ্যা করো।
ঘ. লতিফের স্বভাব তার সফলতা লাভের পথে অন্তরায়। বুঝিয়ে লেখো।

২. দীপাদের স্কুল থেকে এবারে শিক্ষা সফরে সুন্দরবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যেতে চায় বাসে কেউবা লঞ্চে। বাসে কারো কারো অসুবিধা কেউবা আবার আরামদায়কভাবে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে যেতে চায়। শিক্ষক তাদের সময় ও অর্থের দিক চিন্তা না করে শিক্ষা সফরটা উপভোগ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে বললেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে লঞ্চে সুন্দরবন রওনা হলো।
ক. আমাদের 'সব আশা আকাঙ্ক্ষা' কোথায় পূরণ হয়?
খ. পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?
গ. শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীপা ও তার সহপাঠীরা ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে- বুঝিয়ে লেখো।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...